Skip to content
loyalties.space
Cart0
Back to the book

Darogar Daftar (Bengali Crime)

গুম খুন

Priyanath Mukhopadhyay · 1909

গুম খুন গুম খুন প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ২ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে উইকিসংকলন থেকে রপ্তানিকৃত গুম খুন DETECTIVE STORIES, No 194, দারোগার দপ্তর, ১৯৪ সংখ্যা। গুম খুন। প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়-প্রণীত। ১৬২ নং বহুবাজার ষ্ট্রীট, “দারোগার দপ্তর” কার্য্যালয় হইতে শ্রীউপেন্দ্রভূষণ চৌধুরী কর্ত্তৃক প্রকাশিত। All Rights Reserved. সপ্তদশ বর্ষ।] সন ১৩১৬ সাল। [ জ্যৈষ্ঠ। Printed by M. N. Dey, at the Bani Press, No. 63, Nimtola Ghat Street, Calcutta. 1909. পরিচ্ছেদ (মূল গ্রন্থে নেই) সূচীপত্র প্রথম পরিচ্ছেদ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ তৃতীয় পরিচ্ছেদ চতুর্থ পরিচ্ছেদ পঞ্চম পরিচ্ছেদ ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ সপ্তম পরিচ্ছেদ অষ্টম পরিচ্ছেদ প্রথম পরিচ্ছেদ গুম খুন। প্রথম পরিচ্ছেদ। “দারোগা বাবু এসেছেন?” “এসেছেন,—কিন্তু এখন দেখা হওয়া দায়।” “আমার কাজ বড় জরুরি হইবে।” -আমাকে দেখা করিতেই হইবে।” “সমস্ত দিনের পরে তিনি এই মাত্র ফিরিয়া আসিয়াছেন। আমি কোন্ সাহসে এখন তোমাকে তাঁহার নিকট লইয়া যাইব?” এইরূপ কথোপকথন শুনিতে পাইয়া আমি আমার ঘর হইতেই আগন্তুককে লইয়া আসিতে বলিলাম। বাস্তবিকই আমি প্রাতঃকাল হইতে কোন এক তদন্তে নিযুক্ত ছিলাম, সন্ধ্যার কিছু পূর্ব্বে ফিরিয়া আসিয়া অন্ততঃ কিছুক্ষণ বিশ্রামের আশায় যেমন ঘরে আসিয়া উপবেশন করিলাম, অমনই পূর্ব্বোক্ত কথোপকথন আমার কর্ণগোচর হইল। আগন্তুকের বিনীত কণ্ঠস্বর, তাঁহার কাতরোক্তি ও তাঁহার আত্যান্তিক অনুরোধ শুনিয়া আমার হৃদয়ে দয়ার উদ্রেক হইয়াছিল। তাই বিশ্রামের আশায় জলাঞ্জলি দিয়া তাঁহাকে আমার নিকটে আনিতে বলিলাম। কিছুক্ষণ পরেই এক দীর্ঘ শ্মশ্রুধারী প্রৌঢ় মুসলমান আমার সম্মুখে উপস্থিত হইলেন। তাঁহার বয়স আন্দাজ পঁয়তাল্লিশ বৎসর, কিন্তু বোধ হয়, তখনও যৌবনের উত্তেজনা তাঁহার শরীর ও অঙ্গ হইতে অপসৃত হয় নাই। তাঁহাকে দেখিতে অতি সুপুরুষ। কিন্তু তাঁহার তৎকালীন ম্লানমুখ অবলোকন করিলে পাষাণহৃদয়ও দ্রবীভূত হইত। আমি তাঁহাকে বসিতে ইঙ্গিত করিলাম। তিনি সম্মুখে উপবেশন করিলে পর, আমি তাঁহাকে সেখানে আসিবার কারণ জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, “আমার নাম মহম্মদ আবদুল খাঁ, মলঙ্গায় আমার বাড়ী। আমার পুত্র—একমাত্র পুত্র আজ সাত দিন আমার ঘরে নাই। হুজুর, তাহাকে আমার নিকট আনিয়া দিউন।” আমি তাহার বয়স কত জিজ্ঞাসা করিলাম। মহম্মদ উত্তর করিলেন, “করিম খাঁ আমার পোষ্যপুত্র, ঔরসজাত পুত্র নহে। তাহার বয়স তের হইতে পনের বৎসরের ভিতর। নিজের কোন সন্তান না হওয়ায় এবং যৎসামান্য বিষয় সম্পত্তি থাকায় পোষাপুত্র লইতে বাধ্য হইয়াছি। করিম আমারই সহোদরের তৃতীয় পুত্র। খোদার ইচ্ছায়, তাঁহার আটটী পুত্র ও দুইটী কন্যা। করিম তাহাদের মধ্যে তৃতীয়। সে আমাকেই পিতা ও আমার স্ত্রীকে মাতা বলিয়া জানে। যখন তাহার বয়স ছয় মাস, তখন হইতে আমাদের দ্বারা প্রতিপালিত।” আ। আপনার সহোদর জীবিত আছেন? ম। আজ্ঞে হাঁ—আছেন। আ। তাঁহার নিবাস কোথায়? ম। হুগলী। সম্প্রতি আমারই বাড়ীতে আসিয়াছেন। আ। আপনার পুত্রের নিরুদেশের কারণ কিছু জানেন? ম। বুধবার সন্ধ্যার পর একজন ভদ্রলোক আমার হস্তে একখানি পত্র দিলেন, পত্রখানির লেখা ঠিক আমার সহোদরের লেখার মত। পাঠ করিয়া জানিলাম, তাঁহারই পত্র। তিনি সাংঘাতিক পীড়িত। করিমের সহিত দেখা করিতে তাঁহার একান্ত বাসনা হইয়াছে। পত্র-বাহকের সহিত তাহাকে পাঠাইতে অনুরোধ করিয়াছেন। আমি কোনরূপ সন্দেহ না করিয়া তখনই সেই ভদ্রলোকের সহিত পাঠাইয়া দিলাম। তাঁহাকে বারম্বার বলিয়া দিলাম, যেন সে সেখানে পঁহুছিয়াই তাহার পিতার শরীরের অবস্থা জ্ঞাপন করিয়া এক পত্র লিখে। করিমও আমার কথায় সম্মত হইয়া সেই অপরিচিত লোকের সহিত হুগলী যাত্রা করে। সেই অবধি করিম আমার নিকট ফিরিয়া আইসে নাই, কিম্বা কোন পত্রও লিখে নাই। আমি বলিলাম, “আজ শনিবার, বুধবার রাত্রেই করিম হুগলী পঁহুছিয়াছিল। যদি সে বৃহস্পতি কিম্বা শুক্রবারেও পত্র লিখিত তাহা হইলেও আপনি সে পত্র পাইতেন। এখান হইতে হুগলী এক দিনের ডাক।” আমার কথা শেষ হইতে না হইতে মহম্মদ বাধা দিয়া বলিলেন, “আমি ও সেইজন্য সেখানে কোন পত্র লিখি নাই। ভাবিয়াছিলাম, যদি আমার সহোদরের সত্য সত্যই সাংঘাতিক পীড়া হইয়া থাকে, তাহা হইলে করিম খাঁ নিশ্চয়ই ব্যস্ত আছে, হয়ত পত্র লিখিবারও অবসর পায় নাই। কিন্তু মহাশয়! বেলা একটার পর আমি ঘরে বসিয়। আছি, এমন সময় আমার সহোদর, করিমের পিতা সহসা সেইস্থানে উপস্থিত হইলেন এবং তখনই করিমের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। বুধবারে যিনি সাংঘাতিক পীড়িত ছিলেন, তিনি যে হঠাৎ শনিবারে সুস্থ শরীরে এতটা পথশ্রম সহ্য করিতে পারিবে, একথা আমার বিশ্বাস হইল না। আমার স্ত্রী গত বৎসর ওলাউঠায় মারা গিয়াছে, একমাত্র করিম ভিন্ন আমার প্রকাণ্ড বাটীতে আর কোন আত্মীয় স্বজন নাই। দিবা দ্বিপ্রহরে সেই নির্জ্জন গৃহে আমার সহোদরকে দেখিয়া আমার ভয় হইল। ভাবিলাম, বুঝি তাঁহার প্রেতমূর্ত্তি আমার নিকট উপস্থিত হইয়াছে। এই মনে করিয়া’ আমি সহসা কোন কথা কহিতে পারিলাম না। আমার কোন উত্তর না পাইয়া আমার সহোদরের সন্দেহ হইল, তিনি পুনর্ব্বার করিমের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। সেবার আমার সন্দেহ দূর হইল; আমার দৃঢ় বিশ্বাস হইল, তিনিই আমার সহোদর। আমি তখন আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “শুনিলাম, আপনি না কি সাংঘাতিক পীড়িত হইয়াছিলেন?” পীড়ার কথা শুনিয়া তাঁহার চিন্তা হইল। তিনি বিরক্তির সহিত বলিলেন, “আমার পীড়া! কে বলিল? এখন সে কথা ছাড়িয়া দাও আমার করিম কোথায় বল?” আমি সমস্ত কথা তাঁহার নিকট প্রকাশ করিলাম। বলিলাম, “আপনই ত পত্র দিয়াছিলেন এবং সেই পত্রের কথামতই করিমকে পত্র- বাহকের সহিত হুগলি পাঠাইয়া দিয়াছি।” তিনি ভয়ানক রাগান্বিতা হইলেন এবং চীৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কে সেই পত্র তোমার নিকট আনিল? সে পত্রই বা কোথায়?” আমি তখনই পত্রখানি বাহির করিয়া আমার সহোদরের হস্তে দিলাম। বলিলাম, “আপনার প্রাণের গঙ্গাধর এই পত্রখানি আনিয়াছিল।” আমার কথা শুনিয়া তিনি আরও ক্রুদ্ধ হইলেন, বলিলেন, “গঙ্গাধর! নিশ্চয়ই সে হিন্দু। তুমিও বেশ জান, কোন হিন্দুর সহিত আমার সদ্ভাব নাই। আমি পৌত্তলিকদিগের সহিত কোন সংশ্রব রাথিতে ইচ্ছা করি না। আমি তোমার ও সকল কথা শুনিতে চাই না। তুমি আমার করিমের কি করিয়াছ শীঘ্র বল?” আমি তাঁহাকে অনেক বুঝাইলাম। বলিলাম, “যাহাকে শিশুকাল হইতে মানুষ করিয়া আসিতেছি, সে আমার ঔরসজাত পুত্র না হইলেও তাহার উপর আমার ততোধিক স্নেহ জন্মিয়াছে। এক করিম ভিন্ন এজগতে আমার আর কেহ নাই। আপনি আমার উপর অন্যায় সন্দেহ করিতেছেন। বাস্তবিকই বুধবার রাত্রি হইতে তাহার বিষয় আমি কিছুমাত্র অবগত নহি।” এই বলিয়া আমি রোদন করিতে লাগিলাম। আমার সহোদর আমাকে ক্রন্দন করিতে দেখিয়া সমস্ত ব্যাপার বুঝিতে পারিলেন। আমি যে তাঁহাকে সত্য কথা বলিতেছি তাহাও জানিতে পারিলেন। তখন দুই ভ্রাতায় পরামর্শ করিয়া একবার চারিদিক অন্বেষণ করিলাম কিন্তু কোথাও করিমের কোন সংবাদ পাইলাম না। অবশেষে হতাশ হইয়া হুজুরের নিকট আসিয়াছি। এখন আপনিই গরিবের মা, বাপ; আপনি আমার পুত্রকে আনিয়া দিউন।” মহম্মদ আবদুলের সমস্ত কথা শুনিয়া আমি আশ্চর্য্যান্বিত হইলাম। বলিলাম, “আপনার সহোদরের নাম কি? আর কেনই বা অদ্য আপনার নিকট আসিয়াছিলেন?” মহম্মদ উত্তর করিলেন, “আমার সহোদরের নাম সলাম খাঁ। তিনি মধ্যে মধ্যে আমার ও আমার পুত্রের সংবাদ লইতে আসিয়া থাকেন, এবং বোধ হয়, এই অভিপ্রায়েই তিনি আজও আমার নিকট আসিয়াছেন।” দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ। কিছুক্ষণ পরে আমি মহম্মদ আবদুলকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “বালকের গাত্রে কোন প্রকার অলঙ্কার ছিল কি?” ম। আজ্ঞে না। তবে তাহার গলায় একছড়া প্রবালের মালা ছিল। মালাগাছটীর মূল্য অতি সামান্য হইলেও ঐ প্রকার প্রবাল আজ-কাল সহজে দেখিতে পাওয়া যায় না। আ। আপনার কোন শত্রু আছে জানেন? ম। আজ্ঞে না। আমি অধিক লোকের সহিত মিশিতে ইচ্ছা করি না। নিজের জমীদারীর হিসাব-পত্র আপনিই করিয়া থাকি, অবসর অতি সামান্য। আমার শত্রু বা মিত্র কেছই নাই। আ। আপনার সহোদর সলামৎ খাঁর কোন শত্রু আছে কি? ম। আজ্ঞে সেকথা আমি ঠিক করিয়া বলিতে পারি না, যদি অনুমতি হয়, তাহা হইলে তাঁহাকে কল্য আপনার কাছে আনিয়া হাজির করিব। আ। কাহারও উপর আপনার কোন সন্দেহ হয়? ম। করিম খাঁ অল্পবয়স্ক হইলেও বড় ধার্ম্মিক। তাহাকে কখনও সমবয়স্ক বালকদিগের সহিত খেলা করিতে দেখিতে পাই না। যখনই সে অবসর পাইত, তখনই সে কোন মুসলমান ফফিরের নিকট যাইয়া ধর্ম্মবিষয়ে নানা প্রশ্ন করিত। মুসলমান ফকিরেরাও তাহাকে এত ভালবাসিয়া থাকেন, যে তাঁহারা তাহাকে একদিন দেখিতে না পাইলে আমার বাড়ীতে আসিয়া তাহার সন্ধান লইতেন। আ। করিম কেমন করিয়া ফকিরদিগের সহিত মিশিত? এত ফকিরই বা কোথায় পাইত? ম। আমাদের বাড়ী হইতে কিছুদূরে একটা মসজিদ আছে। অনেক মুসলমান ফকির সেই মজিদে আসিয়া থাকেন। করিম সংবাদ পাইলেই তাঁহাদের সহিত দেখা করিয়া আমাদের ধর্ম্মের কূটতত্ত্ব অবগত হইতে চেষ্টা করিত। আপনি যদি দয়া করিয়া একবার আমাদের বাড়ীতে পদধূলি দেন্‌, তাহা হইলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শীঘ্রই এ রহস্য ভেদ হইবে। আমি তাঁহাকে মিষ্ট কথায় সান্ত্বনা করিয়া বলিলাম, “পরদিন প্রাতে আমার একজন বিশ্বাসী লোককে তাঁহার বাড়ীতে পাঠাইয়া দিব, এবং আমি স্বয়ং বৈকালে সেখানে গিয়া যাহা হয় বন্দোবস্ত করিব।” মহম্মদ বাহ্যিক আনন্দিত হইয়া আমার নিকট বিদায় লইলেন। পরদিন প্রাতে আমার হেড কনষ্টেবলকে মলঙ্গায় মহম্মদ আবদুলের বাড়ীতে পাঠাইয়া দিলাম। পরে নির্জ্জনে বসিয়া কিছুক্ষণ গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হইলাম। এই সময় কলিকাতার দক্ষিণে খিদিরপুর নামক স্থানে জাহাজ মেরামত করিবার জন্য একটী ডক প্রস্তুত হইতেছিল। কিছুদিন পূর্ব্বে একটা জনরব শোনা গেল যে, কণ্ট্রাক্টার বাবুরা কোন প্রকারে ঐ ডক প্রস্তুত করিতে পারিতেছেন না। যে অংশ আজ প্রস্তুত হইয়া গেল, পরদিন সকলে আশ্চর্য্যান্বিত সম্পূর্ণরূপে ভাঙ্গিয়া গিয়াছে। বারম্বার কণ্ট্রাক্টারদের যথেষ্ট ক্ষতি হইতেছিল। হইয়া দেখিল যে, তাহা এইরূপে ভাঙ্গিয়া যাওয়ায় অবশেষে এই স্থির হইল যে, কোন ধার্ম্মিক বালকের মস্তক ভিত্তি স্থাপনের সময় না দিলে কখনও ডক প্রস্তুত হইবে না। এইরূপ জনরব শুনিয়া অনেকেই ভীত হইল। প্রায় সকলেই আপনাপন পুত্রকে সাবধান করিতে লাগিল। কিন্তু তখনও পর্য্যন্ত একটীও অভিযোগ শোনা যায় নাই। মহম্মদ যখন করিমের নিরুদ্দেশের কথা বলিলেন, সেও এইরূপ সন্দেহ করিলেন না। তাঁহার ভ্রাতা সলাম হুগলীতে থাকিতেন, সম্ভবতঃ সেখানেও এ জনরব রাষ্ট্র হয় নাই। সুতরাং তিনি এ বিষয়ে সন্দেহ না করিতে পারেন। কিন্তু মহম্মদ আবদুল, তিনি সর্ব্বদাই কলিকাতায় থাকিতেন, নিশ্চয়ই তিনি ঐ জনরব শুনিয়াছিলেন। তিনি কেন তবে ঐ প্রকার সন্দেহ করিলেন না? মহম্মদের মুখে করিমের চরিত্র-বিষয়ে যে সকল কথা শুনিলাম, তাহাতে করিম খাঁ যে একটী ধর্ম্মভীরু বালক সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। তাঁহার ঐ সন্দেহ না করিবার কারণ কি? অনেক ক্ষণ ধরিয়া এইরূপ চিন্তা করিলাম, অবশেষে এই স্থির করিলাম যে, মলঙ্গায় গিয়া স্বয়ং এ বিষয়ের তদন্ত করিব। তৃতীয় পরিচ্ছেদ তৃতীয় পরিচ্ছেদ। বেলা এগারটার পর থানা হইতে বাহির হইলাম এবং খিদিরপুর অভিমুখে যাইতে লাগিলাম। সৌভাগ্যক্রমে সম্মুখেই একখানি ভাড়াটিয়া গাড়ী দেখিতে পাইলাম। তাহারই সাহায্যে বেলা প্রায় দুপুরের সময় যেখানে সেই ডক প্রস্তুত হইতেছিল, সেই স্থানে উপস্থিত হইলাম। পাছে কোন লোক আমার উপর সন্দেহ করে, এই ভয়ে আমি পুলিসের বেশে বাই নাই, কিম্বা সঙ্গে কোন কনষ্টেবল লই নাই। কণ্ট্রাক্টরের সহিত দেখা করাই আমার অভিপ্রেত ছিল। একজন কর্ম্মচারীর মুখে শুনিলাম, তিনি বাঙ্গালী, নিকটেই একখানি অট্টালিকায় তাঁহার অফিস। তিনি তখন অফিসেই ছিলেন। সুতরাং তাঁহার সহিত দেখা করিতে আমার বিশেষ কোন কষ্ট হইল না। সৌভাগ্যক্রমে আমরা পরস্পরের পরিচিত ছিলাম। আমাকে সেখানে সাধারণ বেশে দেখিয়া তিনি আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন। ভাবিলেন,বুঝি আমি ছদ্মবেশে কাহাকেও গ্রেপ্তার করিতে গিয়াছি। ডকে অনেক লোক কার্য্য করে; তাহাদের মধ্যে বদমায়েসের অভাব নাই। সুতরাং তাঁহার অনুমান বড় মিথ্যা নহে। কিছুক্ষণ উভয়ের আলাপের পর সদশিব বাবু আমাকে লইয়া তাঁহার প্রধান কর্ম্মচারী রাজারামের নিকট গমন করিলেন। রাজারাম আমাদিগকে লইয়া ডকের যে যে অংশ সম্পূর্ণ হইয়াছিল, যে অংশ আরম্ভ হইয়াছিল, সেই সমস্ত কার্য্য দেখাইতে লাগিল। অতি অদ্ভুত ব্যাপার! দেখিবার একটী জিনিষ বটে। কত বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার যে এই কার্য্যে বুদ্ধি খরচ করিয়াছেন, তাহার ইয়ত্তা নাই। অসংখ্য রাজমিস্ত্রী, ছুতোর,

Page 1 of 1

Public Domain (Wikisource; Wikidata pub/death check)

Public-domain text, read inside the house. Position stays on this device.

loyalties.space is the house for book authors: letters, the retail desk, and the launch. President Izno writes Netherfiend. Reviews are never bought. Lists are never rented. The house keeps the letters, the library, and the launch desk.

Amber Kumar, Defence Road, Tilpata Karanwas, Greater Noida, Uttar Pradesh 201306, India · hello@loyalties.space

Nothing playing. Choose a book to read or listen.