Skip to content
loyalties.space
Cart0
Back to the book

Bharat Shelf

বোধোদয় (১৮৫২)

Ishwar Chandra Vidyasagar · 1852

বোধোদয় বোধোদয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ২ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে উইকিসংকলন থেকে রপ্তানিকৃত বোধোদয় RUDIMENTS OF KNOWLEDGE. BY ESHWAR CHANDRA VIDYASAGAR. SECOND EDITION CALCUTTA. PRINTED AT THE SANSKRIT PRESS. 1852. বোধোদয় শ্রীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত কলিকাতা। সংস্কৃত যন্ত্রে দ্বিতীয়বার মুদ্রিত। সংবৎ ১৯০৮। প্রথম বারের বিজ্ঞাপন ..... বোধোদয় নানা ইঙ্গরেজী পুস্তক হইতে সঙ্কলিত হইল; পুস্তক বিশেষের অনুবাদ নহে। যে কয়েকটী বিষয় লিখিত হইল বোধ করি তৎপাঠে, অমূলক কল্পিত গল্প পাঠ অপেক্ষা, অনেক উপকার দর্শিতে পরিবেক। অল্পবয়স্ক সুকুমায়মতি বালক বালিকারা অনায়াসে বুঝিতে পরিবে, এই আশয়ে অতিসরল ভাষায় লিখিবার নিমিত্ত বিশেষ যত্ন করিয়ছি; কিন্তু কত দূর পর্যন্ত কৃতকার্য্য হইয়াছি, বলিতে পারিনা। মধ্যে মধ্যে অগত্যা যে যে অপ্রচলিত দুরূহ শব্দ প্রয়োগ করতে হইয়াছে, পাঠকবর্গের বোধসৌকর্য্যার্থে পুস্তকের শেষে সেই সকল শব্দের অর্থ লিখিত হইল। এক্ষণে বোধোদয় সর্ব্বত্র পরিগৃহীত হইলে, শ্রম সকল বোধ করিব। শ্রীঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মা কলিকতা। ২০এ চৈত্র। সংবৎ ১৯০৭। দ্বিতীয় বারের বিজ্ঞাপন। বোধোদয় প্রথম বার যেরূপ মুদ্রিত হইয়াছিল প্রায় তাহাই রহিল। কেবল কোন কোন স্থানে ভাষার কিছু কিছু পরিবর্ত্ত করা গিয়াছে, যে যে স্থানে ভুল ছিল সংশোধিত হইয়াছে আর সুসংলগ্ন করিবার নিমিত্ত কয়েকটী প্রকরণের ক্রম বিপর্য্যয় কমা গিয়াছে। শ্রীঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মা। কলিকতা। ১৯এ ফাল্গুণ। সংবৎ ১৯০৮। সূচীপত্র। প্রকরণ পৃষ্ঠা ঈশ্বর ও ঈশ্বর সৃষ্ট পদার্থ ১ চেতন পদার্থ ৩ মানব জাতি ১১ ইন্দ্রিয় ১৯ বর্ণ—রঙ্‌ ২৬ বাক্যকথন—ভাষা ২৯ কাল ৩৪ গণন—অঙ্ক ৩৮ ক্রয় বিক্রয়—মুদ্রা ৪৬ বস্তুর আকার ও পরিমাণ ৫০ ধাতু ৫৩ হীরা ৬১ কাচ ৬৩ উদ্ভিদ ৬৬ জল—সমুদ্র—নদী ৭০ পরিশ্রম—অধিকার ৭৫ ঈশ্বর ও ঈশ্বর সৃষ্ট পদার্থ বোধোদয়। .... ঈশ্বর ও ঈশ্বরসৃষ্ট পদার্থ। আমরা ইতস্ততঃ যে সমস্ত বস্তু দেখিতে পাই সে সমুদায়কে পদার্থ কহে। পদার্থ তিন প্রকার চেতন, অচেতন, উদ্ভিদ। যে সকল বস্তুর জীবন আছে এবং যথা ইচ্ছা গমনাগমন কবিতে পারে তাহারাই চেতন পদার্থ; যেমন মনুষ্য-গো, অশ্ব, পক্ষী, পতঙ্গ, কীট ইত্যাদি। যে সকল বস্তুর জীবন নাই আর যেখানে রাখ সেই খানেই থাকে, এক স্থান হইতে অন্য স্থানে যাইতে পারে না তাহাদিগকে অচেতন পদার্থ কহে; যেমন ধাতু, প্রস্তর, মৃত্তিকা, জল, ঘটী, বাটী, দোয়াত, কলম, পুস্তক, কাচ ইত্যাদি। আর যে সকল বস্তু ভূমিতে জন্মে তাহারা উদ্ভিদ পদার্থ; যথা তরু, লতা, গুল্ম, তৃণপ্রভূতি। ঈশ্বর সকল পদার্থেরই সৃষ্টিকর্ত্তা। তিনিই প্রথমে চেতন, অচেতন, উদ্ভিদ সমুদায় পদার্থ সৃষ্টি করিয়াছেন। পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য্য, সমুদ্র, পর্ব্বত, তরু, লতা, মনুষ্য, পশু, পক্ষী, কীট, পতঙ্গ প্রভৃতি সকলই তাঁহার সৃষ্টি। এই নিমিত্ত ঈশ্বরকে সৃষ্টিকর্ত্তা কহে। ঈশ্বর নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ। তাঁহাকে দেখিতে পাওয়া যায় না, কিন্তু সর্ব্বদা সর্ব্বত্র বিদ্যমান আছেন। আমরা যাই করি তিনি তাহা দেখিতে পান; যাহা মনে ভাবি তাহাও জানিয়ে পারেন: ঈশ্বর পরম দয়ালু। তিনি যাবতীয় জীব জন্তুকে আহার দেন ও রক্ষা করেন। অতএব ঈশ্বরকে ভক্তি, স্তব ও প্রণাম করা আমাদিগের কর্ত্তব্য কর্ম্ম। চেতন পদার্থ চেতন পদার্থ। সমুদায় চেতন পদার্থের সাধারণ নাম জন্তু। জন্তগণ মুখ ও নাসিকা দ্বারা বায়ু আকর্ষণ এবং মুখ দ্বারা আহার গ্রহণ করিয়া প্রাণধারণ করে। আহার দ্বারা শরীরের পুষ্টি হয়, তাহাতেই বঁচিয়া থাকে। আহার না পাইলে শরীর শুষ্ক হইতে থাকে এবং ত্বরায় মরিয়া যায়! প্রায় সকল জস্তুরই পাঁচ ইন্দ্রিয় আছে। সেই পাঁচ ইন্দ্রিয় দ্বারা তাহারা দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, আস্বাদন ও স্পর্শ করিতে পারে। পুত্তলিকার চক্ষু আছে দেখিতে পায় না; নাসিকা আছে গন্ধ পায় না; মুখ আছে খেতে পারে না; হস্ত আছে কোন বস্তু গ্রহণ করিতে পারে না; কর্ণ আছে কিছুই শুনিতে পায় না; পা আছে চলিতে পারে না। ইহার কারণ এই, পুত্তলিকা অচেতন পদার্থ, তাহার জীবন নাই। ঈশ্বর জন্তুদিগকেই জীবন দিয়াছেন। তিনি ভিন্ন আর কোন ব্যক্তিরই জীবন দিবার শক্তি নাই। দেখ, মনুষ্যেরা পুত্তলিকার মুখ, চোথ, নাক, কান, হাত, পা, সমুদায় গড়িতে পারে ও উহাকে ইচ্ছামত বেশ ভুষাও পরাইতে পারে; কিন্তু জীবন দিতে পারে না। উহা কেবল অচেতন পদার্থই থাকে, দেখিতেও পায় না, শুনিতেও পায় না, চলিতেও পারে না, বলিতেও পারে না। পুথিবীর সকল স্থানেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নানা প্রকার জন্ত আছে। তাাহাদের মধ্যে কতকগুলি স্থলচর অর্থাৎ কেবল স্থলে থাকে। কতকগুলি জলচর অর্থাৎ কেবল জলে থাকে। আর কতক গুলি স্থল ও জল উভয় স্থানেই থাকে, তাহাদিগকে উভচর বলা যাইতে পারে। যাবতীয় জন্তুর মধ্যে মনুষ্য সর্ব্বপ্রধান; আর সমুদায় জন্তু তদপেক্ষায় নিকৃষ্ট; তাহারা কোন ক্রমেই বুদ্ধি ও ক্ষমতাতে মনুষ্যের তুল্য নহে। যে সকল জন্তুর শরীরে চর্ম্ম রোমশ অর্থাৎ রোমে আবৃত,এবং যাহারা চারি পায় চলে,তাহা দিগকে পশু কহে। গো, অশ্ব, গৰ্দভ,ছাগ,মেষ, কুকুর, বিরাল ইহরা ও এইরূপ অন্য অন্য জন্তু পশুশ্রেণীতে গণ্য। পশুর চারি পা এই নিমিত্ত ইহাদিগকে চতুষ্পদ কহা যায়। কোন কোন পশুর খুর অখণ্ডিত অর্থাৎ জোড়া; কেমন ঘোড়ার। কতকগুলির খুর দুই খণ্ডে বিভক্ত; যেমন গো. মেষ, ছাগল প্রভৃতির। কোন কোন পশুর পায়ে খুরের পরিবর্ত্তে নখর আছে; যথা বিড়াল, কুকুর, ব্যাাঘ্র প্রভূতির। কোন কোন পশুর রোম অনেক কাজে লাগে। মেষের লোমে কম্বল, বনাত প্রভৃতি প্রস্তুত হয়; তিব্বৎ দেশীয় ছাগলের লোমে শাল হয়। জন্তুর মধ্যে পক্ষিজাতি দেখিতে অতি, সুন্দর। তাহাদের সব্বাঙ্গ পালকে ঢাকা। দুই পাশে দুইটী পক্ষ অর্থাৎ ডান আছে; তদ্বারা উড়িতে পারে, অনেক দূর গেলেও ক্লেশ বোধ হয় না। উহাদিগের দুটী পা আছে তাহার দ্বারা চলিতে পারে এবং বৃক্ষের শাখায় বসিতে পারে। কোন কোন পক্ষী অত্যন্ত ক্ষুদ্র; যেমন চড়ুই, বাবুই ইত্যাদি। ইহারা খড়, কুটা, তুণ প্রভৃতি আহরণ করিয়া অতি পরিস্কৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাসা নির্ম্মাণ করে। কাক, কোকিল, পায়রা প্রভূতি কতকগুলি পক্ষির আকার কিছু বৃহৎ। হংস, সারস প্রভৃতি কতকগুলি পক্ষী জলে খেলা করে ও সাঁতার দিতে ভাল বাসে। ইহারা জলচর পক্ষী। সকল পক্ষী আপন আপন বাসায় ডিম পাড়ে এবং কিছু দিন ডানায় ঢাকিয়া গরমে রাখিলে ডিমের ভিতর হইতে ছানা বাহির হয়। ইহাকেই ডিমে তা দেওয়া ও ডিম ফুটান কহে। মৎস্য এক প্রকার জন্তু। ইহারা কেবল জলে থাকে। ইহাদের শরীর ছালে আচ্ছাদিত; ঐ ছালের উপর মসৃণ চিক্কণ শল্ক অর্থাৎ আঁইস আছে। বোয়াল মাগুর প্রভূতি কতকগুলি মৎস্যের ছালে শল্ক নাই। মৎস্যের দুই পাশে ষে পাথনা আছে তাহার বলেই জলে ভাসে। মৎস্যেরা অতিবেগে সাঁতার দিতে পারে; এবং জলের ভিতর দিয়া গিয়া কীট ও অন্য অন্য ভক্ষ্য বস্তু ধরে। তিমি নামে এক প্রকার মৎস্য আছে তাহার আকার অতি বৃহৎ; মানুষের অপেক্ষা অনেক বড়। কখন কখন দীর্ঘে ৫৬ হাত ও প্রস্থে প্রায় ১০ হাত তিমি দেখা গিয়াছে। আর এক প্রকার জন্তু আছে তাহাদিগকে সরীসৃপ কহে। কতকগুলি সরীসৃপের পা নাই, বুকে হাঁটে; কতকগুলির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পা আছে, তদ্দ্বারা চলে। সর্প এক প্রকার সরীসৃপ। সর্পের পা নাই, বুকে ভর দিয়া ভূতলে বক্র গমন করে। সর্পের শরীরের চর্ম্ম অতি মসৃণ ও চিক্কণ। ভেক, কচ্ছপ, গোসাপ, টিক্‌টিকী প্রভৃতি কতকগুলি সরীসৃপের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পা আছে, তদ্দ্বারা তাহারা চলিতে পারে। ভেক জাতি অতি নিরীহ। কৌতুক ও আমোদের নিমিত্ত তাাহাদিগকে ক্লেশ দেওয়া উচিত নহে। কেহ কেহ এমত নিষ্ঠুর, যে, ভেক দেখিলেই ডেলা মারে ও যষ্টি প্রহার করে। পতঙ্গ জাতি এক প্রকার জন্তু। পতঙ্গ নানাবিধ। গ্রীষ্ম ও বর্ষা কালে ফড়িঙ্, মশা, মাছি, প্রজাপতি প্রভৃতি বহুবিধ পতঙ্গ উড়িয়া বেড়ায়। কোন কোন পতঙ্গ জাতি সময় বিশেষে অত্যন্ত, ক্লেশকর হইয়া উঠে। পতঙ্গগণ পক্ষী, মৎস্য প্রভৃতি জন্তুর আহার। কীট আতিক্ষুদ্র জন্তু| কীট নানাপ্রকার। উকুন, মৎকুণ, পিপীলিকা, উই, ঘুণ প্রভৃতি ক্ষুদ্র জন্তু কীটজাতি। এ সমস্ত ভিন্ন আরও নানাপ্রকার জন্তু আছে। উহারা এমত ক্ষুদ্র যে অণুবীক্ষণ ব্যতিরেকে কেবল চক্ষুতে দেখিতে পাওয়া যায় না। তাহারা স্ব স্ব প্রকৃতি অনুসারে জলে ও স্থলে অবস্থিতি করে। সমুদায় জগৎ বৃহৎ ও ক্ষুদ্র প্রাণিসমূহে পরিবৃত। অবশ্যই কোন না কোন প্রয়োজন সাধনের উদ্দেশে সমুুদায় প্রাণী সৃষ্ট হইয়াছে। কিন্তু সেই প্রয়োজন কি, অনেক স্থলেই তাহা নির্ণয় করিতে পারা যায় না। জগতে কত জীব জন্তু আছে তাহার সঙ্খ্যা করা যায় মা। কিন্তু স্তষ্টিকর্ত্তার কি আপার মহিমা। তিনি তাহাদিগের প্রতিদিনের অপর্য্যাপ্ত আহার যোজনা করিয়া রাখিয়াছেন। তাহাদিগের অধিকাংশই লতা, পাতা, ফল, মূল ঘাস খাইয়া প্রাণধারণ করে। কতকগুলি জন্তু আপন অপেক্ষা ক্ষুদ্র ও দুর্ব্বল জন্তু ধরিয়া তাহাদের প্রাণ বধ করিয়া ভক্ষণ করে। সিংহ, ব্যাঘ্র, তরক্ষু প্রভৃতি কতকগুলি বড় বড় চতুষ্পদ জন্তু শ্বাপদ অর্থাৎ শিকারী জন্তু ইহারা মৃগ, মেষ প্রভূতি দুর্ব্বল জন্তু বধ করিয়া মাংস ভক্ষণ করে। অশ্ব, গো, গর্দ্দভ, কুকুর, বিড়াল আদি কতকগুলি জন্তু মনুষ্যের অধীন থাকিতে অধিক রত এবং মানুষে যাহা দেয় তাহাই আহার করে। এই সকল জন্তুকে গ্রাম্য পশু বলে। ইহারা অতি নম্রস্বভাব; আমাদিগের অনেক উপকারে আইসে; এই নিমিত্ত ইহাদিগের উপর দয়া রাখা উচিত। কোন্ জন্তু কোন্ শ্রেণীভক্ত, কাহার কি নাম, এবং কে কোন্ জাতীয়, বিশেষরূপে জানা অতি আবশ্যক। কোন পশুকেই অযথানামে ডাক উচিত নহে; যার যে নাম, তাকে সেই নামেই ডাকা কর্ত্তব্য। কোন কোন ব্যক্তি ফড়িঙকে পশু কহে; কিন্তু ফড়িঙ পশু নয়, পভঙ্গ। যে সকল জন্তুর চারি পা তাহাদিগকে চতুষ্পদ কহে। পক্ষী চতুষ্পদ নহে কারণ উহার দুটী বই পা নয়; অতএব উহাকে চতুষ্পদ না কহিয়া দ্বিপদ কহা উচিত। কোন্ জন্তুর কি প্রকৃতি ও ঈশ্বর কি অভিপ্রায়ে সৃষ্টি করিয়াছেন, আমরা তাহা সবিশেষ অবগত নহি। এই নিমিত্ত কতকগুলিকে পবিত্র, পূজ্য, ও আদরণীয় জ্ঞান করি; কতক গুলিকে ঘৃণা করি ও স্পর্শ করি না। কিন্তু ইহা অত্যন্ত অন্যায় ও ভ্রান্তিমুলক। বিশ্বকর্ত্তা ঈশ্বরের সন্নিধানে সকল জন্তুই সমান; অতএব আমাদিগেরও ঐরূপ জ্ঞান করা উচিত। পশুদিগের মধ্যে পদমর্য্যাদা নাই। সিংহরে মৃগেন্দ্র অর্থাৎ পশুর রাজা কহে; কিন্তু তাই কদাচ ঈশ্বরের অভিপ্রেত নহে। সকল পশু অপেক্ষা সিংহের পরাক্রম অধিক, এই নিমিত্ত মনুষেরা তাহাকে ঐ নাম দিয়াছে। নচেৎ সিংহ অন্য অন্য পশু অপেক্ষা কোন মতে উত্তম নহে। মানব জাতি মানব জাতি মনুষ্যজাতি বুদ্ধি ও পরাক্রমে সকল জন্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। তাহাদিগের বুদ্ধি ও বিবেচনাশক্তি আছে; এজন্য পশু পক্ষী ও অন্য অন্য সর্ব্বপ্রকার জীব জন্তুর উপর আধিপত্য করিতে পারে। মনুষ্য পশুর ন্যায় চারি পায় চলে না; দুই পায়ের উপর ভর দিয়া সোজা হইয়া দাঁড়ায়। তাহাদের হস্ত ও অঙ্গুলি সহিত, দুই বাহু আছে; ঐ হস্ত ও অঙ্গুলি দ্বারা তাহারা ইচ্ছানুরূপ সকল কর্ম্ম করিতে পারে। অন্য অনা জন্তুর শীরের চর্ম্ম রোমশ; এ জন্য তাহারা শীতে ও বাতাসে ক্লেশ পায় না। কিন্তু মানুষের চর্ম্ম রোমশ নহে; সুতরাং শীত বাত বারণের নিমিত্ত আবরণ বস্ত্র আবশ্যক। ঈশ্বর মনুষ্যকে হস্ত দিয়াছেন; উহা দ্বারা তাহারা বস্ত্র, গৃহ, গৃহসামগ্রী ও অন্য অন্য আবশ্যক বস্তু প্রস্তুত করিয়া লইতে পারে; এবং রন্ধন ও শীত নিবারণের নিমিত্ত অগ্নিও জ্বালিতে পারে। মনুষ্য জাতি একাকী থাকিতে ভাল বাসে না। তাহারা পিতা, মাতা, ভ্রাতা, স্ত্রী, পুত্ত্র কন্যা প্রভৃতি পরিবারের মধ্যগত ও প্রতিবেশি মণ্ডলে বেষ্টিত হইয়া বাস করে। এরূপও দেখিতে পাওযা যায়, কোন কোন ব্যক্তি লোকসমাজ পরিত্যাগ করিয়া অরণ্যের মধ্যে কুটীর নির্ম্মাণ করিয়া বাস করে; কিন্তু তাদৃশ লোক অতিবরল। অধিকাংশ লোকই গ্রামে ও নগরে পরস্পরের নিকট বাটী নির্ম্মাণ করিয়া অবস্থিতি করে। যে স্থানে অল্প লোক বাস করে, তাহার নাম গ্রাম। যেখানে বহুসঙ্খ্যক লোকের বাস, তাহাকে নগর কহে। যে নগরে রাজার বাস, অথবা রাজকীয় প্রধান স্থান থাকে, তাহাকে রাজধানী কহে; যেমন কলিকাতা বাঙ্গলা দেশের রাজধানী। মনুষ্যেরা গ্রামে ও নগরে একত্র হইয়া বাস করে। ইহার তাৎপর্য্য এই; তাহাদের পরস্পর সাহায্য ও আনুকুল্য হইতে পারিবেক; এবং পরস্পর দেখা শুনা

Page 1 of 1

Public Domain (Wikisource; Wikidata creator death + pub-year check)

Public-domain text, read inside the house. Position stays on this device.

loyalties.space is the house for book authors: letters, the retail desk, and the launch. President Izno writes Netherfiend. Reviews are never bought. Lists are never rented. The house keeps the letters, the library, and the launch desk.

Amber Kumar, Defence Road, Tilpata Karanwas, Greater Noida, Uttar Pradesh 201306, India · hello@loyalties.space

Nothing playing. Choose a book to read or listen.